এগিয়ে যাও এগিয়ে নাও বদলে দাও বাংলাদেশ
post_top_ad

গাছের সুরক্ষায় কমলগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, পেরেক ও বিজ্ঞাপন বোর্ড অপসারণে অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ন

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াদানকারী গাছগুলোতে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন ও সাইনবোর্ড লাগানোর প্রবণতা দীর্ঘদিনের। এতে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী সবুজ বৃক্ষ। গাছের এমন ক্ষতি রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ জামাল হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা-মুন্সীবাজার সড়কের পাশের বিভিন্ন গাছ থেকে পেরেক ও বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ড অপসারণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন সচেতন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অভিযানে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রচারণা ও চিকিৎসাসেবার বিজ্ঞাপন প্রচারে গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ প্রবণতা বন্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৈয়দ জামাল হোসেন বলেন, গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু। গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন, ছায়া ও নির্মল পরিবেশ পাই। অথচ সেই গাছের গায়েই পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে আমরা নিজেরাই গাছের ক্ষতি করছি। পেরেকের কারণে গাছের বাকল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও জানান, কমলগঞ্জ উপজেলা-মুন্সীবাজার সড়ক থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন না লাগানোর জন্য ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, বিজ্ঞাপন লাগানোর নামে যেভাবে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা হচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যক্তি মো আব্দুস সালাম বলেন, গাছ আমাদের প্রতিদিন ছায়া ও অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ গাছের সুরক্ষায় আমরা তেমন সচেতন নই। সৈয়দ জামাল হোসেনের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পুরো পৌরসভায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, শুধু পেরেক অপসারণ করলেই হবে না, গাছের গায়ে বিজ্ঞাপন লাগানোর প্রবণতা বন্ধেও সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন। কমলগঞ্জে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম বৃক্ষ সংরক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 

post_bottom_ad