এগিয়ে যাও এগিয়ে নাও বদলে দাও বাংলাদেশ
post_top_ad

৫৬ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বড়লেখার বোবারতলে, দুর্ভোগে ৭ হাজার মানুষ

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বোবারতল গ্রামে উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাসের এ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা, কালভার্টের সংকট, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। 

১২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, ভূমি জটিলতা ও মামলার বোঝা; ১১ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের আশ্বাস

বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোবারতল গ্রামের প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সড়ক ও কালভার্টের সংকটের কারণে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীকে।

এদিকে গ্রামের ভূমি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের অধিকাংশ জমি বন বিভাগের আওতাধীন বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি শাহবাজপুর চা-বাগান কর্তৃপক্ষও এলাকার বিভিন্ন জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত গ্রামের প্রায় অর্ধশত মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গ্রামে সরকারি বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া গান্দাইল এলাকায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি কিছুটা আশার আলো দেখছেন বোবারতলবাসী। সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে, মহিলা সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আবিদ চৌধুরীর অর্থায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামের সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর একান্ত সচিব উসামা নিজাম চৌধুরী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে গত ২৮ অক্টোবর বোবারতল গ্রাম পরিদর্শন করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বড়লেখা আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর রাজনৈতিক সচিব ও বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নসিব আলী, সহসাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আহমদসহ উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে তাঁরা দিনভর গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং সড়ক, কালভার্ট, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিএনপি নেতারা জানান, বোবারতলের সমস্যাগুলো সংসদ সদস্য আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর কাছে তুলে ধরা হবে। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা।

দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চান গ্রামবাসী

বোবারতলবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, এবার বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে। দ্রুত সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় সাত হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ১১ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ভূমিকা রাখে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন বোবারতলবাসী।

post_bottom_ad