ধুনটে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে মুন্নি খাতুন (৩৪) নামে দুই সন্তানের জননীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী নুর সালামের (৩৮) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুন্নি খাতুন শেরপুর উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের মুনজিল শেখের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর সালাম ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এশার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে নুর সালামের সঙ্গে মুন্নি খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে সাগর (১৫) ও সূর্য (৮) নামে দুই ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয় মাতবরদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে।
প্রায় তিন বছর আগে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মথুরাপুরের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মধুপুর গ্রামে আবু সাইদের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন মুন্নি খাতুন। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করছিলেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত এমন সন্দেহ থেকে নুর সালাম প্রায়ই তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার আগের রাতেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও কথা-কাটাকাটি হলে নুর সালাম নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরে দুপুরের দিকে মুন্নি খাতুন ভাড়া বাসার উঠানে চুলায় রান্না করছিলেন। এ সময় নুর সালাম বাড়িতে ফিরে কৌশলে তাঁকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নুর সালাম ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকেন।
এদিকে, প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বারান্দার টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে মুন্নি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় টয়লেটের ভেতর থেকে নুর সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নুর সালামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হবে।

