এগিয়ে যাও এগিয়ে নাও বদলে দাও বাংলাদেশ
post_top_ad

আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে লড়তে চান মাধবপুরের চেয়ারম্যান, সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের প্রত্যাশা।

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসিদ আলী আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই জনপ্রতিনিধি।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আসিদ আলী জানান, তিনি প্রায় ১৫ মাস কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান বলে জানান তিনি।

দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পর মাধবপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং এরপর থেকেই ইউনিয়নবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান।

আগামী ২০২৬ ও ২০২৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাঁর কাছে নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল মনে হচ্ছে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। দল-মতনির্বিশেষে ইউনিয়নের মানুষ তাঁকে আবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসিদ আলী বলেন, “আমি ১৫ মাস জনগণের সেবা করতে পারিনি। এই সময়ে আমার অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। জনগণ আমাকে আবারও সুযোগ দিলে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চাই। আমি যে সেবা দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে যে সেবা দিতে চাই, সেই বিবেচনায় মাধবপুর ইউনিয়নের মানুষ আমাকে আবারও সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে বিশ্বাস করি।”

এদিকে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে তাঁর গ্রেপ্তারের কারণ এবং দেশের নির্বাচনী পরিবেশ ভালো নয় বলে মনে করার ভিত্তি জানতে চাওয়া হলে আসিদ আলী বলেন, তিনি ৮ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এখনো দলীয়ভাবে তাঁর সেই দায়িত্ব বহাল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরাপদ বোধ করছেন না এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আসিদ আলী বলেন, “দেশে আইন আছে, কিন্তু শাসন নেই। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অনিয়ম ও নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে আমার মনে হয়।”

তবে তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, দেশের পরিস্থিতি যদি এতটাই খারাপ হয়, তাহলে তিনি কারামুক্ত হলেন কীভাবে? কারামুক্তির পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবারও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও তাঁর নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে করা মন্তব্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন প্রশ্নও সামনে আসে।
 

post_bottom_ad