post_top_ad

ইউপি নিয়ন্ত্রণে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

আমাদের বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নিয়ন্ত্রণে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রশাসক ও সদস্য পদে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো ও সাতটি নতুন ইউনিয়ন। কোথাও সরকারি কর্মকর্তাকে, আবার কোথাও রাজনৈতিক দলের নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতা মো. নূরনবী ভূঁইয়াকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১২ জন নির্বাচিত সদস্যকে অপসারণ করে বিএনপির ১২ নেতাকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মেয়াদ ১২০ দিন।


এ ছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুর উপজেলার ১৯টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ইউনিয়নে মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সচল রাখতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বলেছেন, প্রশাসক নিয়োগের সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন বছরের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। প্রথম ধাপে নির্বাচনের উপযোগী ইউনিয়নগুলোতে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচন শিগগির হলে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। অনেক ইউনিয়নে একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। ফলে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী নির্ধারণ বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

post_bottom_ad