স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর খেয়া নৌকাই ভরসা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নরসিংদীর মনোহরদী—এই দুই সীমানার মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদ দুই পাড়ের মানুষের সংযোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘকাল ধরে।
কটিয়াদী উপজেলার মধ্য চরপুক্ষিয়া খুর্শিদের খেয়া ঘাট থেকে জামতলি মোড় পর্যন্ত একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে আয়োজিত মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে একাত্মতা প্রকাশ করে হাজারো মানুষ গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এই মানববন্ধনে চরপুক্ষিয়া ও চরগোহালবাড়িয়া এলাকার সর্বস্তরের অধিবাসী অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান, স্বাধীনতার বহু বছর পেরিয়ে গেলেও দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া নৌকা। বর্ষাকালে নদী পারাপার হয়ে ওঠে জীবনঘাতী। নদীর দুই পাড়েই সংযোগ সড়ক থাকলেও শুধু একটি ব্রিজের অভাবে পুরো এলাকার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে আছে।
মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্যে এলাকার দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র ফুটে ওঠে:
দৈনন্দিন ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: চরগোয়ালবাড়িয়া এলাকার মো. সোহাগ হোসেন বলেন, “উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যায়। এছাড়া কৃষকদের কষ্টের ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে হয়।”
জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দাবি: জালালপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম এবং সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া জানান, স্থানীয় এমপি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নির্বাচনের আগে বারবার এখানে ব্রিজ নির্মাণের কথা দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মনোহরদী-বেলাব আসনের সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
স্থানীয়রা মনে করেন এখানে ব্রিজটি নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নতি হবে না, মনোহরদীর ৩টি ইউনিয়ন ও কটিয়াদীর জালালপুরসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে যাবে।” একটি ব্রিজের দাবি কেবল একটি ভৌগোলিক সংযোগ নয়, বরং দুই জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের টিকে থাকার আকুতি।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারী সাধারণ জনগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অনতিবিলম্বে জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে টেকসই একটি ব্রিজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

