https://www.facebook.com/share/1CXwhqtyWm/
post_top_ad

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন

 কেক কেটে উৎসব নয়, মানবিক উদ্যোগে জন্মদিন উদ্‌যাপন; দুই দিনে চক্ষুসেবা পেলেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ কেক কেটে উৎসব নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার এবং অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।


রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।


আয়োজকদের মতে, নারীশিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।


একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।

নারীশিক্ষার উন্নয়নই মূল লক্ষ্য বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে অতীতেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।


বাইসাইকেল বিতরণের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীশিক্ষার উন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।


শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতির সমালোচনা
চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে এবং তাদের কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই এখন আফসোস করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট চাওয়া হলেও নির্বাচন শেষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে তাদের নেতাদের দেখা যায়নি। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাঁদের সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


উপস্থিত ছিলেন যাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রুপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত সহ  স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


অনুষ্ঠানের শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া করা হয়।

post_bottom_ad