https://www.facebook.com/share/1CXwhqtyWm/
post_top_ad

জুড়ীতে অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, দখল বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

মোঃ সামছুল ইসলাম জুড়ী, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় প্রায় ৩ একর ৭ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে বলে দাবি করেছেন জমির মালিকপক্ষ। আদালতের রায়ে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দখল বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন জনমিলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিক শ্রী নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস (চুনু) এসব তথ্য তুলে ধরেন।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১২৫, আরএস খতিয়ান নম্বর ২৬০, এসএ দাগ নম্বর ১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ নম্বর ১৬৭১ ও ১৬৭২-এর আওতাধীন মোট ৩ একর ৭ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্ড কুমার দাস।


বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, বারিন্ড কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির মালিকানা জিতেন্দ্র কুমার দাসের কাছে আসে। জিতেন্দ্র কুমার দাসের তিন ছেলে থাকলেও তাঁদের মধ্যে দুজন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর সম্পত্তি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসকে দলিল করে দেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।


জমির মালিকপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ওই ৩ একর ৭ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২ একর ৮২ শতক জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত নেন। পরবর্তীতে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া জমির মালিকানা ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি আদালতের রায়ে ওই জমিতে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর নামে জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।


এরপর জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।


এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানানো হয়।


তবে জমিতে বর্তমানে বসবাসরত কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা ওই সময় সাংবাদিকদের কাছে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। জমির মালিকপক্ষ এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তারা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন।
শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান আয়োজকরা।

post_bottom_ad