বড়লেখায় ব্রিকস ফিল্ডে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি ব্রিকস ফিল্ডে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ভূমি জবরদখল, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও প্রবাসী ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ইমরান আহমদ বড়লেখা উপজেলার ১০ নম্বর দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের ৭ নম্বর কাশেমনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ‘প্রোঃ ওয়েস্টার্ন কংক্রিট প্রোডাক্টস ব্রিকস ফিল্ড’-এর স্বত্বাধিকারী।
লিখিত বক্তব্যে ইমরান আহমদ অভিযোগ করেন, নাজিম উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, ওয়াহিদ আলী ও সাইফুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করছেন। এর আগে ইসলাম উদ্দিন তাঁর ব্রিকস ফিল্ডে যাতায়াতের রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দেন এবং প্রতিবাদ করায় ধারালো দা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে এনজিআর ১৬৫/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন বলে জানান ইমরান আহমদ। তাঁর অভিযোগ, আগের মামলার বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ব্রিকস ফিল্ডে প্রবেশ করে শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ইমরান আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকেরা কাজ ছেড়ে চলে যান। ফলে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়। স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইমরান আহমদ বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে বহু শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ সময় তিনি দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ছাড়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড়লেখা উপজেলার ১০ নম্বর দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

