কুলাউড়ায় রবির বাজারে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জমি চাষাবাদকে কেন্দ্র করে রেনু মিয়া (৫০) নামে এক কৃষক ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেনু মিয়া বাদী হয়ে মখলিছ মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা রেনু মিয়া মোবাশ্মির আলীর কাছ থেকে বর্গা নিয়ে একটি কৃষিজমি চাষাবাদ করে আসছিলেন। ঘটনার দিন তিনি ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে গেলে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেনু মিয়াসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এতে রেনু মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেনু মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী রেনু মিয়া বলেন, “আমি জানতাম না কেন তাঁরা আমাকে মারধর করছেন। আমাকে চাষাবাদ না করতে বললে আমি জমিতে চাষ করতাম না। পরে জানতে পারি, একই জমি মখলিছ মিয়াও মোবাশ্মির আলীর কাছ থেকে বর্গা নিয়েছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে মালিকের সঙ্গে কথা বলা যেত। আমাকে কেন এভাবে মারধর করা হলো, সেটাই আমার প্রশ্ন।”
রেনু মিয়া আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পরও তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেছেন এবং দ্রুত পুলিশি নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা চান।
এ ঘটনায় রেনু মিয়া বাদী হয়ে মখলিছ মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মখলিছ মিয়া (৪৫), সেলিম মিয়া (২৪), ইউছুর আলী (৫০), ফরজান আলী (৪৮), মছদ্দর আলী ওরফে কালা (৫০)সহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে কুলাউড়া থানায় মামলা রুজু ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুলাউড়া থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই বিজয়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. কে. জহিরুল ইসলাম (মুন্না) বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

